অস্তিত্ব রক্ষায় সরকারের দ্বারস্থ ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ Reviewed by Momizat on . অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে বেসরকারি উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ বিডি লিমিটেড। অদক্ষ ব্যবস্থাপনা, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) পাওনা আর পাইলট অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে বেসরকারি উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ বিডি লিমিটেড। অদক্ষ ব্যবস্থাপনা, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) পাওনা আর পাইলট Rating: 0
You Are Here: Home » বিমানের খবর » অস্তিত্ব রক্ষায় সরকারের দ্বারস্থ ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ

অস্তিত্ব রক্ষায় সরকারের দ্বারস্থ ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ

untitledঅস্তিত্ব সংকটে পড়েছে বেসরকারি উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ বিডি লিমিটেড। অদক্ষ ব্যবস্থাপনা, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) পাওনা আর পাইলট অসন্তোষে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে সংস্থাটি। এসব সংকট কাটিয়ে উঠতে শেষ পর্যন্ত সরকারের দ্বারস্থ হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

গত ২৪ মার্চ নানাবিধ সমস্যা সমাধানে সহায়তা চেয়ে অর্থমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ। এতে আন্তর্জাতিক রুটে উড়োজাহাজ চলাচলে সমস্যাগুলো তুলে ধরা হয়। সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে— অসম প্রতিযোগিতা, তেলের দামের পার্থক্য, উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ আমদানি ও রক্ষণাবেক্ষণসামগ্রী আনায় সমস্যা, বিমানবন্দরের উচ্চতর মাশুল উল্লেখযোগ্য। এছাড়া এত দিনেও নিজস্ব হ্যাঙ্গার না পাওয়া, যাত্রীদের সুবিধার্থে পর্যাপ্ত চেকইন কাউন্টার না পাওয়া, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অবতরণে বিমানবন্দরের অতিরিক্ত মাশুল, বিদেশী উড়োজাহাজ সংস্থার সমপর্যায়ে দেশী উড়োজাহাজ সংস্থার পার্কিং ফি আদায়, অ্যারোনটিক্যাল ও নন-অ্যারোনটিক্যাল চার্জ মওকুফের বিষয় রয়েছে। এসব বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অমান্য করা নিয়ে বেবিচকের সমালোচনা করা হয়েছে আবেদনে।

পাশাপাশি বেবিচকের পাওনা ৫৮ কোটির মধ্যে ২৮ কোটি টাকার সারচার্জ মওকুফ ও বাকি টাকা সহজ কিস্তিতে প্রদানেরও আবেদন করা হয়।

২০০৭ সালে দেশের আকাশপথের ব্যবসায় নামে বেসরকারি উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ। কার্যক্রম শুরুর কয়েক বছরেই অভ্যন্তরীণ রুটের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট চালু করে। শেয়ারবাজারে সম্পৃক্ত হয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করতেও সমর্থ হয়। তবে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনার ভুল সিদ্ধান্তে নিয়মিত মুনাফা করতে না পারায় ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা। এমনকি আয় না থাকায় বেবিচকের পাওনা মাত্র ৫৮ কোটি টাকাও দীর্ঘদিন ধরে ঝুলিয়ে রেখেছে তারা।

বর্তমানে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের বহরে ১১টি উড়োজাহাজ যুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে ছয়-সাতটি ইজারায় নেয়া। ২০১৫ সালের মধ্যে উড়োজাহাজগুলোর সম্পূর্ণ ইজারা পরিশোধ হয়ে গেলে ইউনাইটেডের সম্পত্তি হয়ে যাবে।

ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে ১১টি উড়োজাহাজের মধ্যে সাতটি বিভিন্ন কারণে বসিয়ে রাখা হয়েছে। আর ইজারাকৃত উড়োজাহাজের দুটিই ইউনাইটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসবিরুল আহমেদ চৌধুরীর উড়োজাহাজ প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান টিএসির। ইউনাইটেড ধুঁকে ধুঁকে চললেও চেয়ারম্যানের নতুন উড়োজাহাজ প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানটি বেশ ভালোই চলছে।

জানা গেছে, কার্যক্রম শুরুর পর বিভিন্ন সময়ে ১০টি আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইট চালু করতে সমর্থ হয় ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ। তবে গত এক বছরে কমতে কমতে বর্তমানে মাত্র পাঁচটি আন্তর্জাতিক রুটে সরাসরি ফ্লাইট রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। আর লোকসান হওয়ায় চালু থাকা এসব রুটের ফ্লাইটসংখ্যাও কমিয়ে দেয়া হয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ যেসব উড়োজাহাজ দিয়ে ফ্লাইট চালাচ্ছে, সেগুলো বেশির ভাগই পুরনো হওয়ায় জ্বালানি সাশ্রয়ী নয়। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালন ব্যয়ও তুলনামূলক বেশি। ফলে লোড ফ্যাক্টর একটু কমলেই লোকসান ঠেকাতে রুট বন্ধ করতে হচ্ছে এয়ারলাইনসটিকে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে পাঁচটি বেসরকারি এয়ারলাইনস এসব উড়োজাহাজ দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে গিয়ে লোকসানে পড়ে সবাই এখন বন্ধ। সর্বশেষ বন্ধ হয়েছে জিএমজি। ফলে এসব পুরনো উড়োজাহাজ দিয়ে ব্যবসায়িকভাবে দাঁড়াতে পারছে না ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ।

উল্লেখ্য, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের বহরে বর্তমানে একটি ড্যাশ-৮ ১০০, তিনটি এটিআর-৭২, পাঁচটি এমডি-৮৩ এবং দুটি এয়ারবাস-৩১০ উড়োজাহাজ রয়েছে।

© 2011-2013 Powered By BDTRAVELNEWS.COM

Read previous post:
নিখোঁজ বিমানের পাইলট ও এটিসি’রকথোপকথন প্রকাশিত

নিখোঁজ মালয়েশিয়ান বিমানের পাইলটের সঙ্গে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের কথোপকথনের অনুলিপি প্রকাশ করা হল। মঙ্গলবার মালয়েশিয়া সরকারের তরফে এটি প্রকাশ করা...

Close
Scroll to top