নাটোরর ঐতিহ্যবাহী কাঁচাগোল্লা Reviewed by Momizat on . ‘নাটোরের কাঁচাগোল্লা’ নাটোরের বনলতা সেনের মতোই আলোচিত, অমৃত।নাটোরের বনলতা সেনের চেয়েও বেশি রয়েছে নাটোরের কাঁচাগোল্লার আন্তর্জাতিক পরিচিতি। নাটোরের কাঁচাগোল্লা শ ‘নাটোরের কাঁচাগোল্লা’ নাটোরের বনলতা সেনের মতোই আলোচিত, অমৃত।নাটোরের বনলতা সেনের চেয়েও বেশি রয়েছে নাটোরের কাঁচাগোল্লার আন্তর্জাতিক পরিচিতি। নাটোরের কাঁচাগোল্লা শ Rating: 0
You Are Here: Home » দেশের খবর » নাটোরর ঐতিহ্যবাহী কাঁচাগোল্লা

নাটোরর ঐতিহ্যবাহী কাঁচাগোল্লা

kacha Golla‘নাটোরের কাঁচাগোল্লা’ নাটোরের বনলতা সেনের মতোই আলোচিত, অমৃত।নাটোরের বনলতা সেনের চেয়েও বেশি রয়েছে নাটোরের কাঁচাগোল্লার আন্তর্জাতিক পরিচিতি। নাটোরের কাঁচাগোল্লা শুধু একটি মিষ্টির নামই নয়, একটি ইতিহাসেরও নাম।

কাঁচাগোল্লা গোল নয়, লম্বা নয়, আবার কাঁচাও নয়। তবুও নাম তার কাঁচাগোল্লা! এই নামেই পরিচিতি দেশ-বিদেশে। ১৭৫৭ সাল থেকে এই মিষ্টি ব্যাপকভাবে পরিচিতি লাভ করে। কাঁচাগোল্লা সৃষ্টির রয়েছে চমত্কার কাহিনী।

জনশ্রুতি , শহরের লালবাজারের মধুসূদন পালের দোকান ছিল নাটোরের প্রসিদ্ধ মিষ্টির দোকান। দোকানে বেশ কয়েকটি বড় বড় চুলা ছিল। মধুসূদন এসব চুলায় দেড় থেকে দু’মণ ছানা দিয়ে রসগোল্লা, পানিতোয়া, চমচম, কালো জাম প্রভৃতি মিষ্টি তৈরি করতেন। দোকানে কাজ করতেন দশ থেকে পনের জন কর্মচারী।হঠাৎ একদিন মিষ্টির দোকানের কোনো কারিগর আসেনি। মধুসূদনের তো মাথায় হাত! এত ছানা এখন কী হবে? এই চিন্তায় তিনি অস্থির। নষ্টের হাত থেকে রক্ষা পেতে ছানাতে তিনি চিনির রস ঢেলে জ্বাল দিয়ে নামিয়ে রাখতে বলেন। এরপর মুখে দিয়ে দেখা যায় ওই চিনি মেশানো ছানার দারুণ স্বাদ হয়েছে। নতুন মিষ্টির নাম কী রাখা হবে—এ নিয়ে শুরু হয় চিন্তা-ভাবনা। রসগোল্লার ছানাকে তেলে ভেজে চিনির রসে ডোবানো হলেও এই ছানা চিনির রসে ডোবানোর আগে কিছুই করা হয়নি অর্থাত্ কাঁচা ছানাই চিনির রসে ঢালা হয়েছে তাই এর নামকরণ করা হয়েছে কাঁচাগোল্লা। শুধু কাঁচা ছানা রসে ডোবানো হয়েছে বলেই এর নাম দেয়া হলো কাঁচাগোল্লা।

কাঁচাগোল্লার স্বাদ রসগোল্লা, পানিতোয়া, এমনকি অবাক সন্দেশকেও হার মানিয়ে দেয়। এর রয়েছে একটি মিষ্টি কাঁচা ছানার গন্ধ যা অন্য কোনো মিষ্টিতে পাওয়া যায় না। ধীরে ধীরে মিষ্টি রসিকরা এই মিষ্টির প্রতি আকৃষ্ট হতে থাকেন। তখন থেকে মধুসূদন নিয়মিতই এই মিষ্টি বানাতে থাকেন। কাঁচাগোল্লার সুখ্যাতি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল। কাঁচাগোল্লার চাহিদা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে মধুসূদন পালের দোকানে প্রতিদিন তিন থেকে সাড়ে তিন মণ ছানার কাঁচাগোল্লা তৈরি হতে লাগল। সে সময় ঢোল বাজিয়ে জানানো হতো কাঁচাগোল্লার কথা।

১৮৪০ সালের দিকে দিঘাপতিয়ার রাজা প্রসন্ন নাথ রায়ের আমলে শ্রীকৃষ্ণের ঝুলন উত্সবের দিনে উপস্থিত ধর্মপরায়ণ সবাইকেই এক বেলচা করে কাঁচাগোল্লা বিতরণ করা হতো। সে সময় প্রতি সের কাঁচাগোল্লার মূল্য ছিল ৩ আনা।

 ১৭৬০ সালে অর্ধবঙ্গেশ্বরী বাংলার দানশীলা শাসনকর্তা রানী ভবানীর রাজত্বকালে কাঁচাগোল্লার সুখ্যাতি দেশ-বিদেশে ছড়াতে থাকে। সে সময় রাজা-জমিদারদের মিষ্টিমুখ করতে ব্যবহৃত হতো এই বিখ্যাত কাঁচাগোল্লা। এমনকি বিলেতের রাজপরিবার পর্যন্ত এই কাঁচাগোল্লা যেত। আরও যেত ভারতবর্ষের সর্বত্র। রাজশাহী গেজেট পত্রিকাতেও কাঁচাগোল্লার সুখ্যাতির কথা বলা হয়েছে। কোলকাতার বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় সেই সময় কাঁচাগোল্লার সুখ্যাতি নিয়ে লেখালেখি হয়েছে। কোলকাতা এবং নাটোর শহর একই সময় প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় ও এই দুই শহরের ঘনিষ্ঠ সার্বক্ষণিক যোগাযোগ থাকায় নাটোরের কাঁচাগোল্লার কথা ভারত, ইংল্যান্ডসহ তত্কালীন বিভিন্ন রাষ্ট্রে কাঁচাগোল্লার কথা ছড়িয়ে পড়ে। এভাবেই কাঁচাগোল্লা পায় আন্তর্জাতিক খ্যাতি।

নাটোরের কাঁচাগোল্লার সুনাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন থেকে ভেজাল কাঁচাগোল্লা একশ্রেণীর ধোঁকাবাজ হকারদের কাছ থেকে কিনে প্রতারিত হচ্ছেন। হকারের কাছ থেকে কেনা কাঁচাগোল্লা কখনই নাটোরের ঐতিহ্যবাহী কাঁচাগোল্লার স্বাদ বহন করে না। এ ব্যাপারে প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নেয়ার ফলে এদের উপদ্রব দিন দিন বাড়ছে।

নাটোর জেলার এই ঐতিহ্যবাহী  মিষ্টি কাঁচাগোল্লা, নাটোরের যে কোন মিষ্টির দোকানে পাওয়া যায় । সবচেয়ে বিখ্যাত কাঁচাগোল্লা পাওয়া যায় কালিবাড়ী মন্দির গেট ,মৌচাক মিষ্টান্ন ভান্ডারে ।

নাটোর ভ্রমণে তাই কাঁচাগোল্লার স্বাদ নিতে কিন্তু ভুলবেন না!

© 2011-2013 Powered By BDTRAVELNEWS.COM

Read previous post:
আশ্রয় যখন ঘন পাতার আডাল, চিতা বাঘ

গ্রামবাসীদের তাড়া খেয়ে গাছে আশ্রয় নিল চিতাবাঘ। এখনও পর্যন্ত ঘন পাতার আডালেই লুকিয়ে চিতাবাঘটি। এ ঘটনা ঘটেছে ভারতের আলিপুর দুয়ারের...

Close
Scroll to top