আহসান মঞ্জিল

আহসান মঞ্জিল পুরোনো ঢাকার ইসলাম পুর এলাকায় অবস্থিত। এর ঠিক দক্ষিণদিকে রয়েছে বুড়িগঙ্গা নদী। গেট দিয়ে প্রবেশ করে রাস্তার পার্শ্বে দেখবেন ফুলের বাগান। লাল-নীল-বেগুনি রঙের ফুলের সমারোহ দেখে মুগ্ধ হবেন। মঞ্জিলের সামনে বিশাল সবুজ মাঠ। মঞ্জিল থেকে বড় একটা সিড়ি নেমে এসেছে মাঝে। মাঠের ঠিক সামনেই নদী। অসাধারন দৃশ্য।

উনিশ শতকের মধ্যভাগ থেকে বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশক পর্যন্ত ঢাকায় তো বটেই পূর্ব বঙ্গেও প্রভাব বিস্তার করেছিল আহসান মঞ্জিল। ১৮৭২ সালে নবাব আব্দুল গনি বাড়িটিকে পুননির্মাণ করে নাম দিয়েছিলেন আহসান মঞ্জিল। ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত এ বাড়িতে নবাব আহসান উল্লাহ বাস করতেন। এখানে প্রাসাদের উপরে অনেক সুদৃশ্য গম্বুজ রয়েছে। বর্তমানে এটি একটি জাদুঘর। প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনাথী এ জাদুঘর দেখতে এসে থাকেন। বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত

এখানে দেখবেন গত শতাব্দির প্রথম দিকের অনেক উল্লেখযোগ্য নির্দশন। ব্রিটিশ ভারতীয় ঢাকার উপাধিপ্রাপ্ত নওয়াবদের বাসস্থান ছিল এই মঞ্জিলটি। আর এখানে গেলে মৃদুমন্দ সুরের মূর্ছনার সাথে সাথে স্বচক্ষে দেখতে পারবেন তখকার নওয়াবদের বাসস্থান এবং নানান স্মৃতিচিহ্ন।

গ্যালারি-১
এখানে লেখা রয়েছে আহসান মঞ্জিলের ইতিহাস। জানবেন।আহসান মঞ্জিল দুটি অংশে বিবক্ত । এর গম্বুজযুক্ত অংশকে বলা হয় ‘রংমহল’। পশ্চিমদিকের আবাসিক প্রকোষ্ঠাদি দিয়ে গঠিত ভবনকে ‘অন্দরমহল’বলা হয়।

গ্যালারি ২
দেয়ালে টানানো রয়েছে প্রাসাদ ভবনের সঙ্গে জড়িত উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক তথ্যাবলির সমারোহ। এগুলো দেখতে ও পড়তে বেশ ভালো লাগবে।

গ্যারারি ৩
এখানে রয়েছে ডাইনিং রুম । কাচ ও চিনামাটির তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী ছাড়াও আলমারি, আয়না দেখবেন এখানে ।

গ্যালারি ৪
রয়েছে নওয়াবদের ব্যবহৃত ঢাক, তলোয়ার, আর্মড, ফিগার ইত্যাদি। বাইরে থেকে যে গম্বুজটি দেখতে পাবেন, সেই গম্বুজঘর কিন্তু এটিই। এর উপরেই গম্বুজ রয়েছে।

গ্যালারি ৫ এটি সিঁড়িঘর।

গ্যালারি ৬  দেখবেন ত্রিশের দশকে হাসপাতালে ব্যবহৃত কয়েকটি ডাক্তারি সরঞ্জাম।

গ্যালারি ৭  রয়েছে মুসলিম লীগ কীভাবে হল এবং প্র্রতমদিককার ঘটনাবলির তথ্য ও চিত্র।

গ্যালারি ৮
রয়েছে নওয়াবদের আমলে ব্যবহৃত জীবজন্তুর শিং। এগুলো দেযালে টানানো দেখবেন । আহসান মঞ্জিলে সর্বমোট ২৩টি গ্যালারি দেখবেন । অন্যান্য গ্যালারিগুলো হল : সিন্দুক কক্ষ, নওয়াব-পরিচিত কক্ষ, প্রতিকৃতি কক্ষ, সলিমুল্লাহ কক্ষ, হিন্দুস্তানী কক্ষ, লাইব্রেরি কক্ষ, বেডরুম, ড্রইংরুম, নাচঘর প্রভৃতি।

আহসান মঞ্জিল দেখে দারুণ মুগ্ধ হবেন। যখন সব ঘুরেফিরে খোলা সড়কে এসে দাঁড়াবেন, তখন বারবার গম্বুজের দিকে তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে হবে। সম্মুখে বুড়িগঙ্গা নদীর দিকে তন্ময় হয়ে তাকিয়ে থাকতে থাকতে নওয়াবদের ঐতিহ্যবাহী সেই দিনগুলোর কথা স্মৃতিপটে ভেসে উঠবে।

ইতিহাস:

ষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে জালালপুর পরগনার জমিদার শেখ ইনায়েতউল্লাহ আহসান মঞ্জিলের বর্তমান স্থান রংমহল নামে একটি প্রমোদভবন তৈরি করেন। পরবর্তীতে তাঁর পুত্র রংমহলটি এক ফরাসি বণিকের নিকট বিক্রি করে দেন। বাণিজ্য কুটির হিসাবে এটি দীর্ঘদিন পরিচিত ছিল। এরপরে ১৮৩৫-এ বেগমবাজারে বসবাসকারী নওয়াব আবদুল গণির পিতা খাজা আলীমুল্লাহ এটি ক্রয় করে বসবাস শুরু করেন। নওয়াব আবদুল গণি ১৮৭২ সালে প্রাসাদটি নতুন করে নির্মাণ করান। নতুন ভবন নির্মাণের পরে তিনি তাঁর প্রিয় পুত্র খাজা আহসানউল্লাহর নামানুসারে এর নামকরণ করেন আহসান মঞ্জিল। ১৮৯৭ সালে ভূমিকম্পে এই ভবনটি ভেঙ্গে পড়ায় তা পূনঃনিমাণ করা হয়।

————–বিজ্ঞাপন