You Are Here: Home » পর্যটন কেন্দ্র » ঐতিহাসিক স্থান » লালবাগ কেল্লা

লালবাগ কেল্লা

লালবাগের কেল্লা মোগল আমলের ঐতিহাসিক নিদর্শন । মোগল আমলে বাংলায় নির্মিত ঐতিহাসিক স্থাপনার মধ্যে ঢাকার বুড়িগঙ্গার তীরে অবস্থিত লালবাগের কেল্লা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পুরাকীর্তি । কেল্লার ভিতরে তিনটি পুরাকীর্তি রয়েছে। পরীবিবির মাজার, দরবার ঘর ও হাম্মামখানা এবং তিন গম্বুজওয়ালা মসজিদ। চারদিকে উঁচু প্রাচীনঘেরা এ কেল্লা দেখলে হঠাৎ মনে হয় লাল মাটির তৈরি। প্রাচীরের উচ্চতা কোথাও কোথাও বিশ ফুট পর্যন্ত। কেল্লায় ঢোকার জন্য চারটি ফটক ছিল। দক্ষিণ দিকের ফটকটি মূল ফটক হিসাবে ব্যবহার করা হতো। এখন এটি বন্ধ। ফটকের সামান্য উত্তরে একসময় গুপ্তপথ ছিল। কেউ কেউ মনে করেন, এ পথ দিয়ে গোপনে নারায়ণগঞ্জের সোনাকান্দা দুর্গের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হতো। গুপ্তপথটি এখন বন্ধ। নোংরা আবর্জনা জমে জায়গাটি এখন দর্শনার্থীদের যাওয়ার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দক্ষিণের ফটক থেকে উত্তরের ফটকে যাওয়ার মাঝ পথে রয়েছে চারকোণা একটি পুকুর। পুকুরের চারপাশের দেয়াল বাঁধানো। জনশ্রুতি আছে, সিপাহী বিপ্লবে নিহত এ অঞ্চলের সৈন্যদের লাশ এ পুকুরে ফেলা হতো। পুকুরের প্রায় দেড়’শ ফুট পশ্চিমে দরবার ঘর। এখানে সুবেদাররা দর্শনার্থীদের সঙ্গে দেখা করতেন। দরবার ঘরের নিচতলায় হাম্মামখানা। অনেকে মনে করে, এ ভবনে সুবেদার শায়েস্তা খান বাস করতেন। দরবার ঘর ও হাম্মামখানায় মুঘল স্থাপত্যের নিদর্শন রয়েছে। এখন এটিকে জাদুঘর হিসাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

পরীবিবির মাজারঃ
পরীবিবির পরিচয় নিয়ে মতভেদ রয়েছে। তবুও বেশীরভাগ ঐতিহাসিকগন মনে করেন তিনি ছিলেন সম্রাট আওরঙ্গজেবের ছেলে শাহজাদা আজমের স্ত্রী। ঐতিহাসিকদের মতে, মাজার নির্মাণ করা হয়েছে ১৬৮৮ সালের আগে। দরবার ঘর থেকে প্রায় নব্বই গজ পশ্চিমে পরীবিবির মাজার। এটি বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য একটি পুরাকীর্কি। হিন্দু ও মুসলিম স্থাপত্যের চমৎকার মিশ্রণ রয়েছে এতে। বলা হয়ে থাকে, সম্রাট হুমায়ুনের মাজারের অনুকরণে নির্মাণ করা হয়েছিল আগ্রার তাজমহল আর তাজমহলের অনুকরণে নির্মাণ করা হয়েছে পরীবিবির মাজার। পার্থক্য শুধু আয়তনে। মূল্যবান মার্বেল পাথর, কষ্টি পাথর, বিভিন্ন রঙের ফুল ও পাতার নকশা করা টালি দিয়ে মাজারের নয়টি ঘর সাজানো হয়েছে। ছাদ কষ্টিপাথরের তৈরি। সমাধির মাঝের ঘরের ওপর একটি গম্বুজ। বড় পাতের আচ্ছাদন দিয়ে তৈরি করা হয়েছে গম্বুজটি। মাজারের দিকে মোট বারোটি দরজা রয়েছে।

পরীবিবির মাজারের প্রায় পঁয়তাল্লিশ গজ পশ্চিমে কেল্লার মসজিদ। মসজিদের চারকোণে চারটি মিনার এবং ছাদে তিনটি গম্বুজ রয়েছে।

ইতিহাস:

সতেরো শতকে বাংলায় মোগল শাসকদের শাসন মনভাব, স্থাপত্য বিকাশের ঐতিহাসিক ক্ষেত্র এই লালবাগ কেল্লা। ইতিহাসের পাতায় লালবাগ কেল্লার রুপকার হিসেবে শায়েস্তা খানের নাম পাওয়া গেলও মুলত শায়েস্তা খান এর নিরমান কাজ শুরু করেন নি ।এটি নির্মাণের স্বপ্ন এবং নির্মাণ শুরু হয়েছিল মোগল সম্রাট আওরাঙ্গজেবের তৃতীয় পুত্র মুহাম্মদ আজম শাহের মাধ্যমে ।আজম শাহ ১৬৭৮ থেকে ১৬৭৯ সাল পর্যন্ত বাংলার সুবেদার ছিলেন ।এই সময় তিনি পিতার নামানুসারে একটি স্থাপনা নির্মাণ শুরু করেন । যার প্রথম নাম আওরাঙ্গবাদ কিল্লা হলেও পরবর্তীতে নাম হয় লালবাগ কেল্লা ।আজম শাহ কেল্লার কাজ শুরু করলে তিনি জরুরী তলবে ঢাকা ছেড়ে দিল্লি চলে যান। থেমে যায় কেল্লার নির্মাণ কাজ ।আজম শাহ নতুন সুবেদার শায়েস্তা খান কে অনুরোধ করেন কেল্লার কাজটি সম্পূর্ণ করতে । কিন্তু শায়েস্তা খান এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে পারেন নি পারিবারিক কারনে । অনেকের মতে বর্তমান এই লালবাগ কিল্লা নির্মাণের সময় শায়েস্তা খান তার কন্যা ইরান দুখত কে হারান ,ইরান দুখত ছিলেন আজম খানের স্ত্রী এবং তিনিই ছিলেন কেল্লার প্রথম রুপকার । এর পর শায়েস্তা খানএর বিশাস জাগে স্থানটি অপয়া । অতঃপর ১৬৮৪ সালে এর নির্মাণ বন্ধ করে দেন।কেল্লা নির্মাণ না করলেও তিনি তার কন্যার মাজার কে দর্শনীয় স্থাপনা বানিয়ে তুলেন । মাজারটি নির্মাণে শায়েস্তা খান ভারতের বিভিন্ন স্থান থেকে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নিয়ে আসেন ।

© 2011-2013 Powered By BDTRAVELNEWS.COM

Scroll to top