You Are Here: Home » পর্যটন কেন্দ্র » জাদুঘর » মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর

ঢাকা শহরের সেগুনবাগিচায় ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। শিল্পকলা একাডেমী ও প্রেসক্লাবের সংযোগ সড়কের ঠিক মাঝামাঝি স্থানে একটি অবস্থিত। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আর সে সময়ের নানা দলিলপত্র, ছবি আর অস্ত্র-শস্ত্র দিয়ে সাজানো হয়েছে এই জাদুঘর। এখানে আছে মোট ৬টি গ্যালারি।

গ্যালারি এক: এই গ্যালারিতে বাংলার অতীত ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের সূচনা থেকে স্বাধীনতার জন্য বাঙালিদের সংগ্রামের পরিচয় উপস্থাপিত হয়েছে।

গ্যালারি দুই: এই গ্যালারিতে পাকিস্তানি শাসনকালের শুরু থেকে ১৯৭০ সালের নির্বাচন পর্যন্ত ইতিহাসের সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে।

গ্যালারি তিন: এই গ্যালারিকে উৎসর্গ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চ ১৯৭১-এর উদাত্ত আহ্বানের জন্য। এখানে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে জনতার অভূতপূর্ব অসহযোগ আন্দোলন, কালোরাত্রি, বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণা, বঙ্গবন্ধুর পক্ষে মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণার উপস্থাপন, লাখ লাখ শরণার্থীদের দুর্গতির চিত্র অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিসভার ঐতিহাসিক শপথ গ্রহণথ ইত্যাদির চিত্র উপস্থাপিত হয়েছে।

গ্যালারি চার: এখানে সেইসব বীর বাঙালিদের ব্যবহৃত জিনিসপত্র রয়েছে, যারা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে নৃশংস, নির্দয়ভাবে নিহত হয়েছেন। এছাড়াও অস্থায়ী সরকারের মন্ত্রিসভা ও প্রশাসন সম্পর্কিত বিভিন্ন জিনিসপত্র, দলিল ও সেক্টর কমান্ডারের ব্যবহৃত সামগ্রী রয়েছে। গ্যালারির বারান্দায় আছে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত বাংলাদেশের বিশাল মানচিত্র।

গ্যালারি পাঁচ: মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ জনগণের অবদানের সাক্ষ্য বহন করে এই কক্ষটি। এছাড়াও স্বাধীনবাংলা বেতার, নৌ-কমান্ডো, বিশাল বাহিনী, নারী সমাজ, বৈদেশিক সমর্থন এবং বিশেষ করে ভারতীয় জনসাধারণের সমর্থনের প্রতিচ্ছবি এখানে স্থান পেয়েছে।

গ্যালারি ছয়: মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের এটা শেষ কক্ষ। এখানে রয়েছে বুদ্ধিজীবী ভারতীয় বাহিনীর অংশগ্রহণ ও আত্মত্যাগের নিদর্শন। এছাড়াও আল-বদর, আল-শামস ও রাজাকার বাহিনীসহ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের চিত্র এবং তাদের জঘন্যতম হত্যাকা-ের নিদর্শন।

এছাড়াও রয়েছে বাংলার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মদানের গৌরবের পরিচয়। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর হৃদয়ে ধারণ করে মুক্তিযুদ্ধের চিহ্ন। শেকড় সন্ধানী প্রজন্মকে জানিয়ে দেয় বাংলাদেশ জন্মের ইতিহাস। স্বাধীনতা দিবসের মাসে একবার এখানে না এলে আত্মশুদ্ধি হয় না। পুরো জাদুঘরটিতে একসঙ্গে প্রদর্শিত হয় প্রায় ১৩০০টি সামগ্রী। অথচ জাদুঘরের সংগ্রহে আছে প্রায় ১১০০০টি প্রদর্শনীর সামগ্রী।

যেভাবে যেতে হবে

ঢাকা শহরের যে কোন স্থান হতে যেতে হবে শাহবাগ। সেখান হতে মৎসভবনের পাশদিয়ে ঢুকে শিল্পকলার পাশ দিয়ে প্রেশক্লাবের দিকে যেতেই পড়বে মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর। মৎস ভবন হতে রিক্সায় করে সহজেই যাওয়া যায় এখানে। অথবা খুব সহজে প্রেসক্লাব হতে রিক্সা নিয়ে যেতে পারেন মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরে।

© 2011-2013 Powered By BDTRAVELNEWS.COM

Scroll to top