You Are Here: Home » পর্যটন কেন্দ্র » জাদুঘর » হাছনরাজা জাদুঘর

হাছনরাজা জাদুঘর

সুনামগঞ্জ পৌরসভা এলাকার তেঘরিয়ায় সুরমা নদীর কোল ঘেষে দাঁড়িয়ে আছে হাছন রাজার স্মৃতি বিজড়িত বাড়ীটি। এ বাড়িটি একটি অন্যতম দর্শনীয় স্থান। হাছন রাজা (জন্ম ১৮৫৪ মৃত্যু ১৯২১ খ্রিঃ) মূলত ছিলেন একজন সম্ভ্রান্ত জমিদার। মরমী সাধক হাছন রাজা জীবনে অসংখ্য গান রচনা করে আজ অবধি লোকপ্রিয়তার শীর্ষ অবস্থান করেছেন। কালোর্ত্তীণ এ সাধকের ব্যবহৃত কুর্তা, খড়ম, তরবারি, পাগড়ি, ঢাল, থালা, বই ও নিজের হাতের লেখা কবিতার ও গানের পান্ডুলিপি আজও বহু দর্শনার্থীদের আবেগ আপ্লুত করে। এই মরমী কবির রচিত গানে মুগ্ধ হয়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হাছন রাজাকে পত্র মাধ্যমে অভিনন্দন ও প্রশংসা জানিয়েছিলেন।সুনামগঞ্জ পৌর এলাকাধীণ গাজীর দরগা নামক পারিবারিক কবরস্থানে প্রিয়তম মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শুয়ে আছেন মরমী কবি হাছন রাজা। হাছন রাজার মাজার দেখার জন্য প্রতি বৎসর বহু দর্শনার্থীর সমাগম হয়।

যেভাবে যেতে হবে

সুনামগঞ্জের ট্রাফিক পয়েন্ট এলাকা থেকে গাড়ি যোগে ৫মিনিটে গন্তব্য স্থানে পৌঁছা যায়।

নিকটবর্তী দর্শনীয় স্থান

টাঙ্গুয়ার হাওর

এখানে টলমলে জল আকাশের রং চুরি করে নিত্য খেলা করে, পাহাড়ের কোলে ঘুমিয়ে পরে সাদা মেঘের দল, সারি সারি গাছ প্রতিনিয়ত স্নান করে জলের বুকে যেখানে লুকিয়ে আছে রঙ্গিন বনের বসতি। এখানে সূর্য একরাশ হাসি নিয়ে জেগে উঠে পাহাড়ের বুক চিেড়, চাঁদ এসে জলের আয়নায় তার রূপ দেখে মুগ্ধ হয়ে থমকে দাঁড়ায়; ঢেউয়ের কোলে দুলতে দুলতে ঘুমিয়ে পড়ে তারার সারি। কল্পনা নয়, সত্যি যেন মর্তের মাঝে স্বর্গের হাতছানি। না, কোন বিদেশ বিভুই নয়, এদেশেরই একটি জায়গা, নাম নাম টাঙ্গুয়া হাওর।

বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা এবং তাহিরপুর উপজেলাস্থিত জীববৈচিত্রে সমৃদ্ধ মিঠা পানির এ হাওর বাংলাদেশের ২য় রামসার এলাকা। ভারতের মেঘালয়ের খাসিয়া, জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে সারি সারি হিজল-করচ শোভিত, পাখিদের কলকাকলি মুখরিত টাংগুয়ার হাওর মাছ, পাখি এবং অন্যান্য জলজ প্রাণীর এক বিশাল অভয়াশ্রম। বর্তমানে মোট জলমহাল সংখ্যা ৫১টি এবং মোট আয়তন ৬,৯১২.২০ একর। তবে নলখাগড়া বন, হিজল করচ বনসহ বর্ষাকালে সমগ্র হাওরটির আয়তন দাড়ায় প্রায় ২০,০০০ একর।

এখানে হাওরের জল আকাশের রং চুরি করে নীলের ভুবন সাজিয়েছে। মেঘমালা অনেক নিচ দিয়ে উড়ে যায়, দূর থেকে দেখে মনে হয় পানিতে যেন ভাসছে মেঘের ভেলা। সাহিত্যের কোন ভাষা, কোন উপমা দিয়ে সে রূপ বর্ননা করা সম্ভব নয়। উপভোগ করার মাঝেই পরম শান্তি। সীমাহীন এই হাওরে বর্ষাকালে চলে বিশাল ঢেউয়ের রাজত্ব। স্বচ্ছ টলমলে জলের নিচে দেখা যায় ঘাস, গাছ আর লতাপাতা বসতি, যেন জীবন্ত কোন অ্যাকুরিয়াম। কোন রকম ভেলা আর জাহাজ ছাড়াই যখন জলের মাঝে দাড়িয়ে থাকে ছোট ছোট গ্রামগুলো তখন মনে হবে যেন কোন এক অচেনা এক পৃথিবী এটি। গাঁয়ের শিশুরা অবলিলায় জলের বুকে ভাসিয়েছে নৌকাগাড়ি। ঢেউয়ের তোড়ে নৌকা থেকে পড়ে গিয়ে খিলখিল করে হাসে।

অসহ্য সুন্দর টাঙ্গুয়ার প্রাকৃতিক রূপ। পুরো হাওর গাছের সীমানা দিয়ে ঘেরা। সেই গাছও মাথাটুকু বাদে ডুবে আছে নীলের সমুদ্রে। এখানে বাতাস কখনো ক্লান্ত হয়না, এখানে আকাশের নিচে সাদা মেঘের বুক চিরে দাঁড়িয়ে আছে কচি পাহাড়, আর সেই পাহাড়ের কোলে নাচ উদ্দোম, উত্তাল, দুরন্ত হাওরের জল।

হাওরের বুকে নৌকা ভাসিয়ে রাত্রিযাপন হতে পারে আপনার জীবনের সেরা অভিজ্ঞতার একটি। আর সে রাতটি যদি হয় চাঁদনী রাত তবে তো কোন কথাই নেই। সাহেববাজার ঘাট থেকে টাঙ্গুয়া হাওরের উদ্দেশ্যে ইঞ্জিনচালিত নৌকা ভাড়া পাওয়া যায়। প্রতিদিনের জন্য ভাড়া নেবে তিন হাজার টাকা। হাওরে যেতে পাঁচ-ছয় ঘণ্টার মতো সময় লাগবে। দু-তিন দিনের জন্য নৌকা ভাড়া করলে প্রয়োজনীয় বাজারসদাই করে নেবেন। অথবা হাওরে ঘুরতে ঘুরতে আশে পাশের কোন বাজার থেকে সদায় করে নিতে পারেন। রান্না নিয়ে চিন্তা করতে হবে না, কেননা নৌকার মাঝিরা মোটামুটি খুব ভাল মানের বাবুর্চি এক এক জন। রান্নার যাবতীয় উপকরনও নৌকায় রয়েছে। এখানকার নৌকাগুলোও চমৎকার। ছইওয়ালা নৌকা, সুতরাং রোদ বৃষ্টির কোন চিন্তা নেই। ছই এর নিচে যেমন অফুরন্ত জায়গা তেমনি ছই এর উপরেও আছে বসার মত জায়গা। আড্ডা িদয়ে আর প্রকৃতি দেখে সময়টা পার করে দিতে পারেন। হাওর ঘুরে রাতটা তাহিরপুর থানার ডাকবাংলোতে থাকতে পারেন।

তাহিরপুরে রাতে থেকে পরদিন ট্যাকেরহাট, বারিক্কাটিলাসহ জাদুকাটা নদী ঘুরে সুনামগঞ্জ চলে আসতে পারেন। সুনামগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশে বেলা আড়াইটায় একটা, এরপর রাত ১০ টায় অরেকটা গাড়ি ছাড়ে।

যেভাবে যেতে হবে

ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জ – শ্যামলী পরিবহনে ৪০০ টাকা ভাড়া নেবে। শ্যামলী আর ইউনিক ছাড়া অন্য কোনো বাস যায় না। সুনামগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড থেকে সাহেববাজার ঘাট পর্যন্ত রিকশায়। সেখান থেকে টাঙ্গুয়া হাওরের উদ্দেশ্যে ইঞ্জিনচালিত নৌকা ভাড়া করবেন, প্রতিদিনের জন্য ভাড়া নেবে তিন হাজার টাকা। হাওরে যেতে পাঁচ-ছয় ঘণ্টার মতো সময় লাগবে। দু-তিন দিনের জন্য নৌকা ভাড়া করলে প্রয়োজনীয় বাজারসদাই করে নেবেন।

তাহিরপুরে রাতে থেকে পরদিন ট্যাকেরহাট, বারিক্কাটিলাসহ জাদুকাটা নদী ঘুরে সুনামগঞ্জ চলে আসতে পারেন। সুনামগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশে বেলা আড়াইটায় একটা, এরপর রাত ১০ টায় অরেকটা গাড়ি ছাড়ে।

কোথায় থাকবেন

বেসরকারী ব্যবস্থাপনায় সেখানে রাত্রি যাপনের কোন ব্যবস্থা নেই তবে সরকারী ব্যবস্থাপনায় ৩ কিঃ মিঃ উত্তর-পূর্বে টেকেরঘাট চুনাপাথর খনি প্রকল্পের রেস্ট হাউজে অবস্থান করা যায়। হাওর ঘুরে রাতটা তাহিরপুর থানার ডাকবাংলোতে থাকতে পারেন।

অনুমিত খরচ

পরিবহন ভাড়া

নৌকা প্রতিদিনঃ ৩০০০ টাকা
স্পীডবোট সাহেববাজার-টাঙ্গুয়াঃ ৭৫০০ – ৮০০০ টাকা
মোটরসাইকেল সাহেববাজার – টাঙ্গুয়াঃ ২৫০ টাকা

 

© 2011-2013 Powered By BDTRAVELNEWS.COM

Scroll to top