শুভলং ঝর্না

রাঙামাটি থেকে জলপথে সোজা মাইল আটেক গেলে সৌন্দর্যের ঝরনা শুভলং। রাঙামাটির প্রায় তিন দিকেই কাপ্তাই হ্রদ। এই জলপথ দিয়ে বরকল যাওয়ার আগে দুই পাহাড়ের মাঝে সরু পথটি হচ্ছে শুভলং। উত্তর-দক্ষিণের দিকে বিস্তৃত পাহাড় এখানে ভাগ করে কর্ণফুলী নদী ছিল আগে। শুভলং-এর পুবদিকে হেমন্ত বসন্ত পাহাড়।

কর্ণফুলীর দুই পাড়ের পাহাড় থেকে নেমে এসেছে আটটির মতো ছোট-বড় ঝরনা। বর্ষাকালে এর প্রকৃত রূপ দেখা যায়, শীতকালে পাহাড় বেয়ে কাঁচের জানালা দিয়ে বৃষ্টি নেমে পড়ার মতো শীর্ণ হয়ে যায়।

প্রধান ধারাটি কর্ণফুলীর ডানদিকে, অত্যন্ত কুড়িতলা সমান উঁচু পাহাড় থেকে ঝরনাধারা নামছে পাথুরে খাড়া পাহাড়ের গা বেয়ে। উপরে দুই তৃতীয়াংশ বিপজ্জনক খাড়া, হীরক দ্যুতি ছাড়িয়ে নামছে স্বচ্ছ জল বিস্ফোরিত হয়ে, বল্লম ছুড়ে, আনন্দধারা নিয়ে। তারপর উদ্গত পেটের মতো পাহাড়, চকচকে যেন গর্ভবতী, আরো নিচে পাথরের গোড়ায় কিছু অংশ উঁচু নিচু সমতল। এখানে ঝরনার স্রোতের উপর ছোট্ট সেতু করা হয়েছে দর্শনার্থীদের জন্য। এখান থেকে পাহাড়ের খোপের শুভলং ঝরনা একত্রে সম্পূর্ণ দেখা যায়। সেতুর তিরিশ ফুট নীচে দিয়ে ঝরনা থেকে উৎপন্ন ছড়া বয়ে গিয়ে কর্ণফুলী বা কাপ্তাই হ্রদে মিশছে।

হ্রদে আছে নানা জাতের গাঙচিল, বড় ও ছোট পানকৌড়ি আর বড় বড় কালচে ভোদর। শীতের আগে আসে প্রচুর পরিযায়ী জলজ পাখি। তখন সৌন্দর্যের ঝিলিমিলি খেলে যায়। ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি নৌকার শব্দে বা তাড়ায় অদূরে আবার ঝাঁপিয়ে নামে। আবার উড়াল, আবার ঝাঁপ। কচুরিপানার উপর তালছোচ খাবার খুঁজছে। এই বিপজ্জনক মাত্রায় বেড়ে যাওয়া কচুরিপানাকে কাজে লাগাতে হবে। কাপ্তাইতে গিয়ে এরা বিপদ সৃষ্টি করছে।

হ্রদের কূলে পাহাড়ের গাছাপালার ফাকে পর্যটনের কুড়েঘর। রাঙামাটির অদূরে ‘পেদা তিং তিং’ রেস্তোরাঁ বা হোটেল। এখানে শুধু সপরিবারে থাকা যায়। পেদা তিং তিং অর্থ পেট টইটম্বুর। মনি স্বপন দেওয়ানের হোটেল আছে শুভলং-এ ঢোকার আগে পাহাড়ের উপর। ওখানে পার্বত্য চট্টগ্রামের নিজস্ব রান্না আছে। সাবেরাং দিয়ে ভর্তা বা মাংস, বাঁশের চোঙায় ভর্তা টাকি মাছ, বাঁশের কোড়ের অপূর্ব রান্না। কলাপাতায় মোড়া বদাখোলা, তেল-মসলা ছাড়া শাক ও তরকারী রান্না। নাপ্পি দিয়ে ভর্তা ও তরকারী আছে। হরিণের শুকনো মাংস রান্না খেয়েছেন? মোষের শুকনো চামড়ার বিশেষ রান্না? শিমুল ফুল রান্না? পাকা বেগুনের সুস্বাদু তরকারি? তেল-ঝাল ছাড়া উচ্ছে শাক, মূলার কচি ফুল ও বীজ আস্ত মূলা সেদ্ধ, শামুক ও কাকড়া লেলম পাতা সেদ্ধ, মারফা (এক রকম শশা), জুমের মিষ্টি ভুট্টা সেদ্ধ, বাঁশের চোঙায় রান্না ঘন লাল ও ঘন কালো বিনি চালের ভাত? অথবা ভাপে রান্না (যাকে স্মোকড রান্না বলে) বিনিভাত? বাঁশের চোঙায় পাতা মোষের দই? বিনি চালের মিষ্টি জগরা? ঝাঁঝালো একরকম পাতার শাক? ওদের রান্নায় তেল ও মশলা নেই। চিংড়ি শুটকির অপূর্ব ব্যবহার ওরা জনে। অনেক রকম কচু ও আলু আছে ওদের। বাহারী এত শাক সবজি আছে যে, সেই স্বাদের বর্ণনা আমি এখানে দিতে পারব না।

সাতটি ছোট ছোট ঝরনা প্রায় অদৃশ্য হয়ে আছে গাছপালার ফাঁকে হ্রদের কূলে। দুই পাহাড়ের গা বেয়ে ওরা নামছে গুন গুন করে কখনও বা উচ্চস্বরে নিজেদের ঘোষণা করছে। এর পানি সুপেয়, নিশ্চিন্তে খেয়ে আপনি খিদে বাড়িয়ে তুলতে পারেন, দীর্ঘজীবন পেতে পারেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম হলো বাংলাদেশের ভূস্বর্গ। তাই সময় পেলে ঘুরে আসুন। জেনে নিন নিজের দেশকে।

যেভাবে যেতে হবে

রাঙামাটি শহর থেকে ইঞ্জিন বোটে শুভলং যেতে সময় লাগে প্রায় দুই ঘন্টা। রিজার্ভ বাজার, তবলছড়ি বাজার এবং পর্যটন কমপ্লেক্স থেকে ইঞ্জিন বোট ভাড়া পাওয়া যায়। যাওয়া আসার ভাড়া ৭০০- ১৫০০ টাকা। যেতে পারবেন ১০ থেকে ২০ জন। সম্প্রতি চালু হয়েছে এই পথে আধুনিক জলযান কেয়ারী কর্ণফুলী। এছাড়া রিজার্ভ বাজার থেকে সকাল থেকে দুপুরের পর পর্যন্ত লোকাল লঞ্চ ছাড়ে বিভিন্ন গন্তব্যে। সকালে উঠলে ফিরতি পথেও পেয়ে যাবেন কোনো লঞ্চ। ঘুরে আসতে পারেন সেসব কোনো লঞ্চেও। শুভলং যতো না সুন্দর, তার চেয়ে আরো সুন্দর এর যাওয়ার পথটি। দুপাশে উঁচু পাহাড় তার মাঝ থেকে নিরবধি বয়ে চলা কাপ্তাই লেক।

কোথায় থাকবেন

থাকার জন্য রাঙ্গামাটিতে সরকারী বেসরকারী অনেকগুলো হোটেল ও গেষ্ট হাউজ রয়েছে। তাছাড়া আরো কিছু বোডিং পাওয়া যায় থাকার জন্য। বোডিংগুলোতে খরচ কিছুটা কম তবেথাকার জন্য খুব একটা সুবিধার নয়। নিন্মে কয়েকটি হোটেল এর বর্ননা দেয়া হলোঃ

(১) পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্স

  • ১২ টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রুম রয়েছ। প্রেতিটির ভাড়াঃ ১৭২৫ টাকা
  • ৭টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রনহীন রুম রয়েছে প্রতিটির ভাড়াঃ ৮০৫ টাকা
    যোগযোগ
    ফোনঃ ০৩৫১-৬৩১২৬ (অফিস)

(২) হোটেল সুফিয়া

  • ২৭ টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রুম রয়েছ। প্রেতিটির ভাড়াঃ ৯০০ টাকা (একক), ১২৫০ (দ্বৈত)
  • ৩৫টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রনহীন রুম রয়েছে প্রতিটির ভাড়াঃ ৬০০ টাকা
    যোগাযোগ
    ০৩৫১-৬২১৪৫, ৬১১৭৪, ০১৫৫৩৪০৯১৪৯

(৩) হোটেল গ্রীন ক্যাসেল

  • ৭ টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রুম রয়েছ। প্রেতিটির ভাড়াঃ ১১৫০ হতে ১৬০০ টাকা পর্যন্ত
  • ১৬টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রনহীন রুম রয়েছে প্রতিটির ভাড়াঃ ৭৫০ হতে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত
    যোগাযোগঃ
    ০৩৫১-৭১২১৪, ৬১২০০, ০১৭২৬-৫১১৫৩২, ০১৮১৫-৪৫৯১৪৬

এছাড়াও রয়েছে আরো বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য হোটেল যেমন * হোটেল জজ * হোটেল আল মোবা * হোটেল মাউন্টেন ভিউ * হোটেল ডিগনিটি * হোটেল সাফিয়া * হোটেল ড্রিমল্যান্ড ইত্যাদি

নিকটবর্তী দর্শনীয় স্থান

কাপ্তাই লেক

আমাদের দেশের মধ্যে ঘুরে বেড়ানোর জন্য অনেক সুন্দর সুন্দর জায়গা আছে। খুব কম খরচে এবং অল্প সময়ে বেড়ানোর জন্য রাঙ্গামাট জেলার কাপ্তাই হতে পারে অনন্য একটি জায়গা। সবুজ পাহাড়ের কোল জড়িয়ে রাখা শান্ত লেকের বুকে নৌকা নিয়ে ঘুরে বেড়নোর এমন আনন্দময় অনুভূতি আপনার ক্লান্তির ক্ষতে পরশ বুলিয়ে যাবে নিমিষেই। কাপ্তাই জেটি গেট থেকে নৌকা নিয়ে আপনি চলে যেতে পারেন চাকমা রাজবাড়ী, রাঙ্গামাটি ঝুলন্ত ব্রিজ হয়ে একেবারে সুবলং ঝর্ণা পর্যন্ত।তবে এই ঝর্ণাকে জীবন্ত পেতে হলে আপনাকে যেতে হবে ভরা বর্ষায়। বছরের বাকী সময়ে ঝর্ণাটি ক্ষিণ ধারায় বহে। মাঝ পথের জন্য পর্যাপ্ত খাবার দাবার এবং পানীয় সংগে নিয়ে নেয়া ভাল। আর পেডা তিং তিং নামের চাকমা ধাচেঁর রেস্তোরেন্ট তো আছেই। তাছাড়া কাপ্তাই লেকের পানি বর্ষা মৌসুমে কানায় কানায় পূর্ণ থাকে। তাই আপনি সামনের বর্ষা মৌসুমে পরিবার এবং বন্ধুবান্ধব নিয়ে কাপ্তাই বেড়াতে যাবার প্রোগ্রাম করতে পারেন। যারা সাঁতার কাটতে জানেন না, তাদের ভয় পাওয়ার কিছু নাই। কারণ এই লেকের পানি খুবই শান্ত, নিস্তরঙ্গ। তারপরও নিরাপত্তার জন্য লাইফ জ্যাকেট বা অন্যান্য নিরাপত্তা সামগ্রী নিয়ে নেয়া ভাল। তাছাড়া আপনার ভাড়া করা নৌকার মধ্যেও কিছু নিরাপত্তা সামগ্রী থাকবে।

কাপ্তাই লেকে দিনে দিনে ঘুরে বেড়িয়ে সন্ধ্যার আগে জেটি গেটে ফিরে আসাই ভাল। কারণ ফিরতে রাত বেশী হয়ে গেলে লেক আর পাহাড়ের গোলক ধাঁধায় পড়তে পারেন। তাই যত সকালে জেটি গেট থেকে নৌকা ছাড়া যায় ততই মঙ্গল।

আপনি চাইলে কাপ্তাই রাত্রি যপাপন করতে পারেন অথবা ফিরে এসে চট্টগ্রাম শহরেও থাকতে পারেন। কাপ্তাই রাত্রি যাপন করলে আপনার কিছু বাড়তি প্রাপ্তি যোগ হবে। পরদিন সকালে আদিবাসি পল্লী চিৎমরম, রাম পাহাড়, সীতা পাহাড়, ঝুম রেস্তোরা, ব্যাংছড়ি, চন্দ্রঘোনা পেপার মিল ইত্যাদি স্থানে ঘুরে আসতে পারেন। এছাড়া অনুমতি নিয়ে ঢুকে যেতে পারেন দেশের একমাত্র পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকল্পের ভিতরে কিংবা সেনানিবাসের দৃষ্টিনন্দন জীপতলি রিসোর্টে। কাপ্তাইয়ের প্রাকৃতকি সৌন্দর্যের এমন লীলাভূমিতে কয়েক দিন কাটানোর মোহ দীর্ঘদিন আপনাকে আচ্ছন্ন করে রাখবে নি:সন্দেহে।

চট্টগ্রাম থেকে কাপ্তাই যাবার পথে লিচুবাগান থেকে কাপ্তাই অংশের প্রাকৃতকি সৌন্দর্য পাষাণ হৃদয়েও রোমান্টকিতা জাগাবে। একপাশে উঁচু পাথুরে পাহাড় আর অপর পাশে কর্নফুলী নদীর আকাঁ বাকাঁ প্রবাহ আপনার হৃদয় হারানোর ঘন্টা বাজিয়ে দিবে। কাপ্তাই ভ্রমনের মাধ্যমে আপনি লেক আর পাহাড়ের অকৃত্রিম সুন্দরের পাশাপাশি পাহাড়ী জনপদের জীবন এবং সংগ্রাম দেখার অপূর্ব সুযোগ পাবেন। ভ্রমন শুধু দেহ মনের ক্লান্তিই দূর করে না, এটি দেশকে জানার জন্য এবং দেশপ্রেম জাগানোর জন্য সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ উপায়ও বটে।

রাঙ্গামাটি

নৈসর্গিক সৌন্দর্যের এক অপার লীলাভূমি রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা। এখানে পাহাড়ের কোল ঘেঁসে ঘুমিয়ে থাকে শান্ত জলের হ্রদ, নদী বয়ে চলে তার আপন মনে। সীমানার ওপাড়ে নীল আকাশ মিতালী করে হ্রদের সাথে, চুমু খায় পাহাড়ের বুকে। এখানে চলে পাহাড় নদী আর হ্রদের এক অপূর্ব মিলনমেলা যেখানে প্রকৃতি কথা বলে কবিতার ভাষায়। নদীর বাঁকে বাঁকে বাতাস সুর তোলে আপন মনে, গায় সুন্দরের গান। মুগ্ধ নয়নে শুধু চেয়ে থাকতে হয় অসহায় মানুষ হয়ে। চারিপাশ যেন পটুয়ার পটে আঁকা কোন জল রঙের ছবি। এখানে হাজার রঙের প্রজাপতি খেলা করে সবুজের মাঝে, রাতের আঁধারে দীপ জ্বেলে যায় লক্ষ কোটি জোনাকীর দল। কোন উপমাই যথেষ্ট নয় যতটা হলে বোঝানোয় যায় রাঙ্গামাটির অপরূপ সৌন্দর্য। এখানকার প্রতিটি পরতে পরতে লুকিয়ে আছে অদেখা এক ভূবন যেখান আপনার জন্য অপেক্ষা করছে নয়ানাভিরাম দৃশ্যপট।

পাখির কুহুতান, সবুজের মাখামাখি আর অসংখ্য নৃগোষ্ঠী এই জনপদকে দিয়েছে ভিন্ন এক রূপ। এখানে প্রায় ১৪টির মতো উপজাতী বসবাস করে। চাকমা, মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা, ত্রিপুরা, মুরং, বোম, খুমি, খেয়াং, পাংখোয়া, লুসাই, সুজ সাওতাল ও রাখাইন অন্যতম। নৃগোষ্ঠীর জীবন-যাপন ও সংগ্রাম আপনাকে যেমন মুগ্ধ করবে তেমনি মুগ্ধ করবে এর পর্যটন এলাকাগুলো। রাঙ্গামাটিতে ভ্রমন করার জন্য রয়েছে অনেকগুলো দর্শনীয় স্থান। এর মধ্যে কাপ্তাই লেক, পর্যটন মোটেল, ডিসি বাংলো, ঝুলন্ত ব্রিজ, পেদা টিংটিং, সুবলং ঝর্না, রাজবাড়ি, রাজবন বিহার, উপজাতীয় জাদুঘর, কাপ্তাই হাইড্রো ইলেক্ট্রিক প্রজেক্ট, কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

এখানকার দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে কাপ্তাই হ্রদ ভ্রমন অন্যতম ও অসাধারণ। । কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ নির্মানের ফলে সৃষ্টি হয় সুবিশাল কাপ্তাই হ্রদ। মূলত পানি বিদ্যুত উৎপাদনের জন্য এই বাঁধ নির্মিত হয়। অসংখ্য পাহাড়ের কোল ঘেঁষে বয়ে চলা আঁকাবাঁকা বিশাল কাপ্তাই হ্রদে নৌবিহারে অনুভূতি এক অনন্য অভিজ্ঞতা। এতে করে অনুভূত হবে রোমাঞ্চকর অনুভূতির । দেশীয় ইঞ্জিন নৌকা,লঞ্চ, স্পিডবোটে দিনভর নৌবিহার করা যেতে পারে। মজার ব্যাপার হলো আপনি চাইলে এই হ্রদ ঘুরতে ঘুরতেই দেখে ফেলতে পারবেন রাঙ্গামাটির অন্যান্য দর্শনীয় স্থানগুলো। হ্রদটি ঘুরে দেখার জন্য আপনার প্রয়োজন হবে একটি ভাল নৌযানের। রাঙ্গামাটি শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে আপনি ট্রলার বা বোট ভাড়া করতে পারবেন, সারাদিনের জন্য ভাড়া করলে দেড় থেকে দু হাজার পর্যন্ত টাকা নিবে। একটা মাঝারি আকৃতির বোটে ত্রিশ জন বসা যায়। পর্যটন থেকেও বোট ভাড়া করা যায়, তবে রেট বেশি। ছোট বোটের ভাড়াও কম নয়। রিজার্ভ বাজার থেকে বোট বা ট্রলার ভাড়া করলে একটু কম দামে পাওয়া যাবে। এক হাজার থেকে বারোশর মধ্যে হয়ে যাবে। তবে পর্যটন বা অন্যান্য সংস্থার ট্রলারের মতো দেখতে সুন্দর না বলে অনেকে সেগুলো ভাড়া নিতে চান না। এগুলো ছাড়াও কেয়ারী সিন্দবাদ আছে যেটি রাঙ্গামাটি থেকে সুবলংয়ের উদ্দেশ্যে দিনে দুবার যাতায়াত করে। অবশ্য নিজের মতো করে ঘুরতে চাইলে সেগুলোতে না যাওয়াই ভাল। কারণ এই ট্রিপগুলো বুড়িছোঁয়ার মতো করে একেকটা জায়গায় যায় আর ফিরে আসে। এতে মন ভরে না, থাকে না স্বাধীনতা। সুতরাং একলা চলো নীতিই উত্তম।

কাপ্তাই হ্রদ ভ্রমনের জন্য একটু ভোরে ভোরে রওয়ানা হওয়াই উত্তম। হ্রদের মাঝখান দিয়ে নৌভ্রমন আপনার মনে এমনই এক সুখস্মৃতি তৈরি করবে যা আপনি কখনোই ভূলতে পারবেন না। যে দিকে তাকাবেন কেবল পানি আর তার মাঝে মাঝে ছোট ছোট টিলা। লাল মাটির টিলাগুলোর গাঁয়ে সবুজের সমারোহ, যেন এগুলো ঢেকে আছে সবুজ কার্পেটে। অসহ্য সুন্দর যে দৃশ্য। কখনো ডানে কখনো বামে আবার কখনো বা মনে হবে সম্মুখে সীমাহীন পথ। এখানে জল, পাহাড় আর আপনি ছাড়া আর কিছুই নেই চারিদিকে। এ এক অসাধারন অনুভুতি। কখনো কখনো বেশ বড় বড় পাহাড় আপনার চোখে পড়বে। এর দৃষ্টিনন্দন শীলা খন্ড আপনার নজর কাড়বেই। মন চাইবে উড়াল দিয়ে চলে যাই সেখানে। চাইলে অবশ্য যেতেও পারেন। একটু কষ্টসাধ্য- এই আর কি। প্রকৃতি আর ভ্রমন পিপাষু মানুষ উভয়রই রয়েছে একটি নিজস্ব ভাষা। প্রকৃতির সাথে কথা বলতে বলতে কখনযে ঘড়ির কাঁটা এগিয়ে যায় টেরই পাওয়া যায় না। এভাবে চলতে চলতে একে একে আপনি পাড়ি দেবেন কাপ্তাই হ্রদ, সুবলং ঝর্না, সুবলং বাজার, পেদা টিং টিং, রাজবাড়ী, রাজ বনবিহার, ঝুলন্ত সেতু আর পর্যটন মোলেট সহ অনেক কিছু। সময়ের আঁচড় পরবে ঘড়ির কাটায় কিন্তু তখনো আপনি অভূক্ত এক ভ্রমনপিয়াসী।

থাকার জন্য রাঙ্গামাটিতে সরকারী বেসরকারী অনেকগুলো হোলে ও রেষ্ট হাউজ রয়েছে। তাছাড়া আরো কিছু বোডিং পাওয়া যায় থাকার জন্য। তবে বোডিংগুলো খুব একটা সুবিধার নয়। অনেকগুলো হোটেল মোটেল থাকলেও ৩/৪টি হোটেল উল্লেখযোগ্য।