You Are Here: Home » পর্যটন কেন্দ্র » রাঙ্গামাটি

রাঙ্গামাটি

ভ্রমণের জন্য আমরা দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়ানোর স্বপ্ন দেখি এবং তা বাস্তবায়নও করি। তবে এই ভ্রমণ সকল শ্রেনীর মানুষের পক্ষে সম্ভব হয় না। কারন দেশ-বিদেশ ভ্রমণ করা অনেক ব্যয়বহুল। তাহলে কি বাংলাদেশের মানুষরা প্রকৃতির তৈরি এই অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করতে পারবে না? পারবে, তবে এই দৃশ্য উপভোগ করার জন্য তাকে দেশ-বিদেশ ঘুরতে হবে না। আমাদের এই দেশেই আছে বিভিন্ন রকম প্রাকৃতিক সৌন্দের্জের সমারোহ। মানুষের ব্যস্ত সময়ের মাঝে স্বল্প সময়ের মধ্যে ভ্রমনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক সৌন্দের্জের আনন্দ উপভোগ করার একটি বিশেষ স্থান হচ্ছে বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি জেলা।

বাংলাদেশের পর্যটন স্থানের মধ্যে একটি অন্যতম স্থান হচ্ছে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা। বাংলাদেশের মধ্যে রাঙ্গামাটিই একমাত্র জেলা যে জেলায় দুইটি দেশের সীমান্ত রয়েছে। শুধু তাই না, বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে এটাই একমাত্র জেলা যে জেলায় কোন রিক্সা চলাচল করে না। তাছাড়াও রাঙ্গামাটি জেলার রয়েছে আরও বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য।

বৈশিষ্ট্যর মধ্য দিয়ে শেষ নয়, সৌন্দর্যের এক অপার লীলাভূমি রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা। এখানে পাহাড়ের কোল ঘেঁসে ঘুমিয়ে থাকে শান্ত জলের হ্রদ, নদী বয়ে চলে তার আপন মনে। সীমানার ওপাড়ে নীল আকাশ  করে হ্রদের সাথে, চুমু খায় পাহাড়ের বুকে। এখানে প্রায় ১৪টির মতো উপজাতী বসবাস করে। চাকমা, মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা, ত্রিপুরা, মুরং, বোম, খুমি, খেয়াং, পাংখোয়া, লুসাই, সুজ সাওতাল ও রাখাইন অন্যতম। নৃগোষ্ঠীর জীবন-যাপন ও সংগ্রাম আপনাকে যেমন মুগ্ধ করবে তেমনি মুগ্ধ করবে এর পর্যটন এলাকাগুলো।

দর্শনীয়স্থানসমূহঃ

রাঙ্গামাটিতে ভ্রমন করার জন্য রয়েছে অনেকগুলো দর্শনীয় স্থান। এর মধ্যে কাপ্তাই লেক, পর্যটন মোটেল, ডিসি বাংলো, ঝুলন্ত ব্রিজ, পেদা টিংটিং, সুবলং ঝর্না, রাজবাড়ি, রাজবন বিহার, উপজাতীয় জাদুঘর, কাপ্তাই হাইড্রো ইলেক্ট্রিক প্রজেক্ট, কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

এখানকার দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে কাপ্তাই হ্রদ ভ্রমন অন্যতম ও অসাধারণ। । কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ নির্মানের ফলে সৃষ্টি হয় সুবিশাল কাপ্তাই হ্রদ। মূলত পানি বিদ্যুত উৎপাদনের জন্য এই বাঁধ নির্মিত হয়। অসংখ্য পাহাড়ের কোল ঘেঁষে বয়ে চলা আঁকাবাঁকা বিশাল কাপ্তাই হ্রদে নৌবিহারে অনুভূতি এক অনন্য অভিজ্ঞতা। এতে করে অনুভূত হবে রোমাঞ্চকর অনুভূতির । দেশীয় ইঞ্জিন নৌকা, লঞ্চ, স্পিডবোটে দিনভর নৌবিহার করা যেতে পারে। মজার ব্যাপার হলো আপনি চাইলে এই হ্রদ ঘুরতে ঘুরতেই দেখে ফেলতে পারবেন রাঙ্গামাটির অন্যান্য দর্শনীয় স্থানগুলো। হ্রদটি ঘুরে দেখার জন্য আপনার প্রয়োজন হবে একটি ভাল নৌযানের।

রাঙ্গামাটি শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে আপনি ট্রলার বা বোট ভাড়া করতে পারবেন, সারাদিনের জন্য ভাড়া করলে সাত থেকে আট হাজার পর্যন্ত টাকা নিবে। একটা মাঝারি আকৃতির বোটে ত্রিশ জন বসা যায়। পর্যটন থেকেও বোট ভাড়া করা যায়, তবে রেট বেশি। ছোট বোটের ভাড়াও কম নয়। রিজার্ভ বাজার থেকে বোট বা ট্রলার ভাড়া করলে একটু কম দামে পাওয়া যাবে। তবে পর্যটন বা অন্যান্য সংস্থার ট্রলারের মতো দেখতে সুন্দর না বলে অনেকে সেগুলো ভাড়া নিতে চান না। এগুলো ছাড়াও কেয়ারী সিন্দবাদ আছে যেটি রাঙ্গামাটি থেকে সুবলংয়ের উদ্দেশ্যে দিনে দুবার যাতায়াত করে। অবশ্য নিজের মতো করে ঘুরতে চাইলে সেগুলোতে না যাওয়াই ভাল। কারণ এই ট্রিপগুলো বুড়িছোঁয়ার মতো করে একেকটা জায়গায় যায় আর ফিরে আসে। এতে মন ভরে না, থাকে না স্বাধীনতা। সুতরাং একলা চলো নীতিই উত্তম।

রাঙামাটি থেকে জলপথে সোজা মাইল আটেক গেলে সৌন্দর্যের ঝরনা শুভলং। রাঙামাটির প্রায় তিন দিকেই কাপ্তাই হ্রদ। এই জলপথ দিয়ে বরকল যাওয়ার আগে দুই পাহাড়ের মাঝে সরু পথটি হচ্ছে শুভলং। রাঙামাটি শহর থেকে ইঞ্জিন বোটে শুভলং যেতে সময় লাগে প্রায় দুই ঘন্টা। রিজার্ভ বাজার, তবলছড়ি বাজার এবং পর্যটন কমপ্লেক্স থেকে ইঞ্জিন বোট ভাড়া পাওয়া যায়। যাওয়া আসার ভাড়া ১৫০০- ২০০০ টাকা। যেতে পারবেন ৩০ থেকে ৫০ জন।  এছাড়া রিজার্ভ বাজার থেকে সকাল থেকে দুপুরের পর পর্যন্ত লোকাল লঞ্চ ছাড়ে বিভিন্ন গন্তব্যে। সকালে উঠলে ফিরতি পথেও পেয়ে যাবেন কোনো লঞ্চ। ঘুরে আসতে পারেন সেসব কোনো লঞ্চেও। শুভলং যতো না সুন্দর, তার চেয়ে আরো সুন্দর এর যাওয়ার পথ

কুড়েঘর। রাঙামাটির অদূরে ‘পেদা তিং তিং’ রেস্তোরাঁ বা হোটেল। এখানে শুধু সপরিবারে থাকা যায়। পেদা তিং তিং অর্থ পেট টইটম্বুর। মনি স্বপন দেওয়ানের হোটেল আছে শুভলং-এ ঢোকার আগে পাহাড়ের উপর। ওখানে পার্বত্য চট্টগ্রামের নিজস্ব রান্না আছে। সাবেরাং দিয়ে ভর্তা বা মাংস, বাঁশের চোঙায় ভর্তা টাকি মাছ, বাঁশের কোড়ের অপূর্ব রান্না। কলাপাতায় মোড়া বদাখোলা, তেল-মসলা ছাড়া শাক ও তরকারী রান্না।

হোটেল গেষ্টহাউজ

রাঙ্গামাটিতে থাকার জন্য  সরকারী বেসরকারী অনেকগুলো হোটেল ও গেষ্ট হাউজ রয়েছে। তাছাড়া আরো কিছু বোডিং পাওয়া যায় থাকার জন্য। বোডিংগুলোতে খরচ কিছুটা কম তবেথাকার জন্য খুব একটা সুবিধার নয়। নিন্মে কয়েকটি হোটেল এর বর্ননা দেয়া হলোঃ

(১) পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্স

  • ১২ টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রুম রয়েছ।
  • ৭টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রনহীন রুম রয়েছে

(২) হোটেল সুফিয়া

  • ২৭ টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রুম রয়েছ।
  • ৩৫টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রনহীন রুম রয়েছে।

(৩) হোটেল নিডস হিল ভিউ

  • ১৫ টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রুম রয়েছ।
  • ১০ শীতাতপ নিয়ন্ত্রনহীন রুম রয়েছে।

(৩) হোটেল গ্রীন ক্যাসেল

  • ৭ টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রুম রয়েছ।
  • ১৬টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রনহীন রুম রয়েছে ।

এছাড়াও রয়েছে আরো বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য হোটেল যেমন, হোটেল জজ, হোটেল আল মোবা, হোটেল মাউন্টেন ভিউ, হোটেল ডিগনিটি, হোটেল সাফিয়া, হোটেল ড্রিমল্যান্ড ইত্যাদি।

© 2011-2013 Powered By BDTRAVELNEWS.COM

Scroll to top