ব্লু-কার্ডঃ জার্মানির নতুন এক যুগের সূচনা Reviewed by Momizat on . অর্থনীতি যতই শক্তিশালী হতে থাকুক, একটা ব্যাপারে জার্মানি পিছিয়ে ছিল অনেকদিন থেকেই। আর সেটা হল ঋণাত্মক জন্মহার। ধারণা করা হয়, আনুমানিক ২০১৫ থেকে ২০১৭ সালের পর থে অর্থনীতি যতই শক্তিশালী হতে থাকুক, একটা ব্যাপারে জার্মানি পিছিয়ে ছিল অনেকদিন থেকেই। আর সেটা হল ঋণাত্মক জন্মহার। ধারণা করা হয়, আনুমানিক ২০১৫ থেকে ২০১৭ সালের পর থে Rating: 0
You Are Here: Home » ভিসা বিষয়ক » ব্লু-কার্ডঃ জার্মানির নতুন এক যুগের সূচনা

ব্লু-কার্ডঃ জার্মানির নতুন এক যুগের সূচনা

German visaঅর্থনীতি যতই শক্তিশালী হতে থাকুক, একটা ব্যাপারে জার্মানি পিছিয়ে ছিল অনেকদিন থেকেই। আর সেটা হল ঋণাত্মক জন্মহার।

ধারণা করা হয়, আনুমানিক ২০১৫ থেকে ২০১৭ সালের পর থেকেই পেনশন ভাতা দেয়ার জন্য অন্য পথ খুঁজতে হবে সরকারকে। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে ২০১২ সালের আগস্ট মাস থেকে খুলে গেল জার্মানিতে বিদেশীদের কাজ করার পথ। পূর্বের কঠিন অবাস্তব নিয়ম কানুন বাদ দিয়ে ঢেলে সাজানো হল আইন কানুন । চালু হল জার্মানি ব্লু-কার্ড।

এই নতুন নিয়মের মধ্যে চারটি যুগান্তকারী পরিবর্তন…

ব্লু-কার্ড পাবার জন্য বেতনের সীমা কমিয়ে আনা।

পরিবারের জন্য সহজ ভিসার নিয়ম ও তাদের জন্য কাজ করার অনুমতি।

সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ার দ্রুত করন। কাজ পেলে সাথে সাথেই কাজ ও থাকার অনুমতি, কোন ধরণের বিলম্ব ছাড়াই।

এখানে পড়তে আসা ছাত্র ছাত্রীদের জন্য কাজের অনুমতি বাড়ানো, পড়া শেষ করার পর শুধুমাত্র চাকুরী খোঁজার জন্য ভিসা দেয়া ইত্যাদি।

ব্লু-কার্ড বেতন সীমাঃ
যাদেরই জার্মানির যেকোনো ইউনিভার্সিটির ডিগ্রী বা জার্মান সমমানের ডিগ্রী অন্যদেশ থেকে নেওয়া আছে, এবং তারা যদি বছরে ৪৭,৬০০ ইউরোর বেশি বেতন পায় এমন চাকুরী খুঁজে পায়, তাহলে তারা ব্লু-কার্ডের জন্য যোগ্য বলে গণ্য হবে। ন্যাচারাল সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং, গণিত, আইটি বা ডাক্তারসহ যেসব ক্ষেত্রে জার্মানিতে দক্ষ লোকের বিশেষ ঘাটতি আছে, সেইসব বিষয়ে এই বেতন সীমার পরিমাণ এই মুহূর্তে বছরে ৩৭,১২৮ ইউরো।

ব্লু-কার্ড বাংলাদেশ থেকেও সরাসরি পাওয়া সম্ভব। এর জন্য বাংলাদেশের রিকগনাইজড ডিগ্রি পাওয়াই যথেষ্ট। কেউ চাইলেই বাংলাদেশে বসেও ইন্টারনেটে জব সার্চ করতে পারে, এর জন্য জার্মান সরকার থেকে ইংরেজিতে বেশ কিছু সাইট অনুমোদন করা হয়েছে। এরজন্য জার্মান কর্মসংস্থানের ওয়েব সাইট দিয়ে শুরু করা যেতে পারে।

কাজের অনুমতিতে কোন বিলম্ব থাকছে না
জার্মানিতে বিদেশীদের কর্মসংস্থানের জন্য যে সরকারি সংস্থাটি নিয়োজিত আছে, সেটি হল সাভ (Zentrale Auslands und Fachvermittlung (ZAV)। যারা প্রথম ক্যাটাগরিতে ব্লু-কার্ড পাচ্ছে (বাৎসরিক বেতন ৪৭,৬০০ ইউরো বা তার বেশি), এদের জন্য সাভ থেকে অনুমতি নেবার কোন প্রয়োজন থাকছে না। আবেদন করার সাথে সাথেই এমব্যাসি থেকে জার্মানির কাজ ও থাকার প্রাথমিক অনুমোদন পাওয়া যাবে। দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে ব্লু-কার্ড পাচ্ছে (বাৎসরিক বেতন ৩৭,১২৮ ইউরো বা তার বেশি), তাদের জন্য অবশ্য আবেদনের পর সাভের অনুমতি নিতে হবে।

বাংলাদেশ থেকে সরাসরি জার্মানিতে আসতে হলে…………

ধরা যাক, বুয়েট থেকে ব্যাচেলর/মাস্টার্স পাশ করে একটি ছেলে/মেয়ে জার্মানির কোন কোম্পানিতে চাকরি নিয়ে আসতে চায়। তার জন্য স্টেপগুলো এমন হবেঃ

ইন্টারনেটে বসে পছন্দমতন স্পেশালাইজেশন অনুযায়ী জব খুঁজে বের করা।

নেটে বসেই আবেদন, সার্টিফিকেট ইত্যাদি কাগজ পাঠিয়ে দেয়া।

অনেক ক্ষেত্রে প্রাথমিক ইন্টার্ভিউ হয় ফোনে, প্রার্থী পছন্দ হলে ফ্লাইট ও হোটেল ভাড়াসহ ইন্টার্ভিউতে সরাসরি আমন্ত্রণ জানানো হবে।

চাকুরীর কন্ট্রাক্ট পেপার নিয়ে ঢাকাস্থ জার্মান এমব্যাসিতে ভিসার আবেদন জমা দেয়ার পর বেতনের ক্যাটাগরির উপর নির্ভর করে ভিসার জন্য এক থেকে তিন সপ্তাহ পর্যন্ত লাগতে পারে। প্রাথমিক ভিসার সময়কাল তিন মাস। এটা জার্মানিতে আসার পর পরই চার বছর পর্যন্ত বাড়ানো যায়।

বাংলাদেশী ছাত্রছাত্রী যারা জার্মানিতে পড়াশোনা করেছ………
যারা জার্মানিতে এসে ডিগ্রী নিয়েছে, তাদের জন্য স্টেপগুলো আরেকটু সহজ। ব্লু-কার্ডের নিয়মের সাথে সাথে এখানে পড়া শেষ করার পর ১৮ মাসের জন্য শুধুমাত্র একটা চাকুরী খুঁজে নেবার জন্য ভিসা দেওয়ার নিয়ম হয়েছে। এদেরকে যা করতে হবেঃ

পড়া শেষ করে জার্মানিতে ১৮ মাসের মধ্যে চাকরি খুঁজে বের করা।

চাকরির কন্ট্রাক্ট নিয়ে ফরেন অফিসে থাকা ও কাজের পারমিট চেয়ে আবেদন করা।

কোন জার্মান এই জব করতে পারত কিনা- এই জাতীয় কোন ধরণের পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়াই সাথে সাথে এদেরকে চার বছর পর্যন্ত ভিসা ও কাজের অনুমতি দেয়া হবে।

Germany-landscapeনতুন  সুযোগ-সুবিধাঃ

জার্মানিতে উচ্চশিক্ষায় আগত ছাত্র-ছাত্রীদের কাজের অনুমতি আগেকার ৯০ দিন থেকে বাড়িয়ে এখন থেকে বছরে ১২০ দিন করা হয়েছে।

ইচ্ছে করলে বাংলাদেশ থেকে ৬ মাসের জন্য শুধুমাত্র চাকরির সন্ধানে জার্মানিতে আসার ভিসা পাওয়া যায়। এই সময়ে কোন চাকরি খুঁজে পেলে, বাকিসব প্রক্রিয়া উপরের উদাহরণ ২ এর মতন হবে।

ব্লু-কার্ড প্রাপ্তদের পরিবার (স্বামী/স্ত্রী) সাথে সাথেই ভিসা ও যেকোনো কাজের অনুমতি পাবেন

স্থায়ী আবাসনঃ

ব্লু-কার্ড পাওয়ার ৩৩ মাস পরই জার্মানিতে স্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি পাওয়া যাবে। এমনকি কারোও যদি জার্মান ভাষা ভাল ভাবে শেখা থাকে (বি১ লেভেল), তাহলে তারা ব্লু-কার্ড পাবার মাত্র ২১ মাসের পরেই স্থায়ী আবাসনের অনুমতি পাবে। উল্লেখ্য, ব্লু-কার্ড ছাড়াও পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট পাওয়া সম্ভব, তবে তার জন্য প্রায় ৫ বছর সময় লাগে।

যারা জার্মানিতে পড়াশোনা করেছে, তারা ব্লু-কার্ড পাবার ২ বছর পরেই স্থায়ী আবাসনের অনুমতি পাবে।

গবেষক, বিজ্ঞানী বা ইন্ডাস্ট্রিতে উঁচু পদে অধিষ্ঠিতদের (অথবা বছরে ৬৫,০০০ হাজার ইউরোর উপরে বেতন) সাথে সাথে জার্মানিতে স্থায়ী আবাসনের অনুমতি দেয়া হবে।

ফলে জার্মানির ব্লু-কার্ড প্রক্রিয়া, এক যুগান্তর বিপ্লব আনবে বলে সুশীল সমাজের অভিমত।

© 2011-2013 Powered By BDTRAVELNEWS.COM

Read previous post:
ভ্রমণপিয়াসীদের ভীড়ে মুখরিত ‘মধুটিলা ইকোপার্ক’

শীত মৌসুমে ভ্রমণপিয়াসীদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে ভারত বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী পার্ক ‘মধুটিলা ইকোপার্ক'। পার্কের চারপাশে উঁচু-নিচু পাহাড়ি টিলা আর সবুজের...

Close
Scroll to top