লোকসান জেনেও কেনা হচ্ছে আরো ৬ ওয়াটার বাস Reviewed by Momizat on . ওয়াটার বাস সেবায় সংস্থাটির মাসে লোকসান ১০-১২ লাখ টাকা। গত বছর জুলাই থেকে চলতি বছর ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আট মাসে এ সেবায় লোকসান হয় প্রায় ৯০ লাখ টাকা। আশানুরূপ সেবা ওয়াটার বাস সেবায় সংস্থাটির মাসে লোকসান ১০-১২ লাখ টাকা। গত বছর জুলাই থেকে চলতি বছর ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আট মাসে এ সেবায় লোকসান হয় প্রায় ৯০ লাখ টাকা। আশানুরূপ সেবা Rating: 0
You Are Here: Home » দেশের খবর » লোকসান জেনেও কেনা হচ্ছে আরো ৬ ওয়াটার বাস

লোকসান জেনেও কেনা হচ্ছে আরো ৬ ওয়াটার বাস

Water Busওয়াটার বাস সেবায় সংস্থাটির মাসে লোকসান ১০-১২ লাখ টাকা। গত বছর জুলাই থেকে চলতি বছর ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আট মাসে এ সেবায় লোকসান হয় প্রায় ৯০ লাখ টাকা। আশানুরূপ সেবা দিতে না পারলেও আরো ওয়াটার বাস কেনার নির্দেশনা দিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে নতুন করে আরো ছয়টি ওয়াটার বাস কেনা হচ্ছে। এজন্য ব্যয় হচ্ছে ৫ কোটি ২০ লাখ টাকা। নতুন ছয়টি ওয়াটার বাস তৈরি করছে হাইস্পিড শিপবিল্ডিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড।

শুরু থেকেই ওয়াটার বাস নিয়ে বিপত্তির শেষ নেই। প্রথম দফায় দুটি বাস দিয়ে ২০১০ সালে পরীক্ষামূলক সেবাটি চালু হলেও অব্যাহত লোকসানের কারণে ১১ মাসের মাথায় তা বন্ধ করে দেয়া হয়। প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর পুনরায় চারটি ওয়াটার বাস তৈরি করে বিআইডব্লিউটিসি। পাশাপাশি পুরনো দুটিও মেরামত করা হয়। গত বছরে ৪ জুলাই এগুলো চালু করা হলেও লোকসানের বৃত্ত থেকে বেরোনো সম্ভব হয়নি। ফলে ছয়টি ওয়াটার বাসই গত ২২ ফেব্রুয়ারি ছয় মাসের জন্য বুড়িগঙ্গা ফ্লোটিং নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেয়া হয়।

কিন্তু এক মাসের মাথায় গত ২৩ মার্চ বাসগুলো ফিরিয়ে দেয় বুড়িগঙ্গা ফ্লোটিং। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, প্রতি ট্রিপে (যাওয়া-আসা) একটি ওয়াটার বাসে ডিজেল লাগে প্রায় ১২০ লিটার। অর্থাৎ এক ট্রিপে জ্বালানি বাবদই ব্যয় হয় ৮ হাজার টাকার বেশি। অথচ কোনো কোনো ট্রিপে ১ হাজার টাকাও আয় হয় না। চুক্তি অনুযায়ী, দৈনিক ছয়টি ট্রিপ দিলে ওয়াটার বাসগুলোর জ্বালানি বাবদই ব্যয় হয় প্রায় ৪৯ হাজার টাকা। জনবলসহ দৈনিক ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৫২ হাজার টাকা। আর দৈনিক আয় ১০ হাজার টাকাও হয় না। ট্রিপ বাড়ালে লোকসান আরো বাড়ে।

বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান মজিবর রহমান এ বিষয়ে বণিক বার্তাকে বলেন, লোকসানের কারণে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এগুলো চালাতে রাজি নয়। এ কারণে ইজারা বাতিল করা হয়েছে। তবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ব্যর্থ হলেও ওয়াটার বাস বন্ধ করা হয়নি। বিআইডব্লিউটিসি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এগুলো পরিচালনা করছে। নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান আগ্রহী হলে এগুলো আবার ইজারা দেয়া হবে।

নানা অসঙ্গতির কারণে শুরু থেকেই ওয়াটার বাস জনপ্রিয়তা পায়নি। নতুন তৈরি করা ওয়াটার বাসগুলোয় ব্যবহার করা হয় ইউচাই চায়না কোম্পানি লিমিটেডের অত্যন্ত নিম্নমানের ইঞ্জিন। এগুলোর গতি অনেক কম। ফলে ৪০ মিনিটে গাবতলী থেকে সদরঘাট পৌঁছার কথা থাকলেও সময় লাগে প্রায় দ্বিগুণ। এত লম্বা সময় বুড়িগঙ্গার দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে ভ্রমণ করতে যাত্রীরা আগ্রহী নন। এছাড়া চলার সময় ইঞ্জিনে প্রচণ্ড শব্দ হয়। এটিও ওয়াটার বাসের যাত্রীদের বিরক্তি সৃষ্টি করে।

এদিকে ওয়াটার বাসগুলো সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৪৫ মিনিট পর পর ১৪টি ট্রিপ দেয়ার কথা। কিন্তু যাত্রী না থাকায় শিডিউল ঠিক রাখতে পারেনি বিআইডব্লিউটিসি। বর্তমানে দৈনিক ছয়টি ট্রিপ দেয়া হয়। এতে কখন ওয়াটার বাস ছাড়বে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এছাড়া এখনো চালু হয়নি টিকিট ব্যবস্থা। ফলে ভাড়া আদায় নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে কর্মীদের প্রায়ই বচসার ঘটনা ঘটে।

রাজধানীর যানজট নিরসনে গত জুলাইয়ে নামানো হয় ছয়টি ওয়াটার বাস। ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে নামানো এসব ওয়াটার বাস এখন যাত্রীশূন্য। আট মাসে ৯০ লাখ টাকা লোকসানের কারণে গত ফেব্রুয়ারিতে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়া হয় বাসগুলো। তবে যাত্রী না পাওয়ায় এক মাসের মধ্যে তা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনকে (বিআইডব্লিউটিসি) ফেরত দেয় ইজারাদাররা। হতাশাজনক এ পরিস্থিতিতে নতুন করে আরো ছয়টি ওয়াটার বাস কিনছে সংস্থাটি।

© 2011-2013 Powered By BDTRAVELNEWS.COM

Read previous post:
জার্মানিতে বৈমানিক ধর্মঘট, প্রায় ৪ হাজার ফ্লাইট বাতিল

জার্মানীর লুফথানসা বিমান বন্দর ৩ হাজার ৮০০ ফ্লাইট বাতিল করেছে। বৈমানিকদের একটি সংগঠনের ৩ দিনব্যপী প্রতিবাদ কর্মসূচির কারণে, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ...

Close
Scroll to top